দেশের ষাটোর্ধ্ব সব নাগরিকের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় ১৮ বছর বয়সী কেউ প্রতিমাসে ১০০০ টাকা করে পেনশন তহবিলে জমা দিলে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার জমার পরিমাণ হবে ৫ লাখ টাকা। ৪২ বছর ধরে এই পরিমাণ টাকা জমা দিলে বয়স ৬০ বছর অতিক্রম করার পর আমৃত্যু প্রতিমাসে ৬০,০০০ টাকা হারে পেনশন পাবেন তিনি।

এ তথ্য জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, আগামী শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ঘোষণা করবেন। তার আগে বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিং করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ১৮-৬০ বছর বয়সী যে কেউ নিজের ভোটার আইডি নম্বর ব্যবহার করে পেনশন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পেনশন চাঁদা বহন করার সক্ষমতা থাকলে তারাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

তারা জানান, ইতোমধ্যে সর্বজনীন পেনশন আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দেড়-দুই মাসের মধ্যেই আইন প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হবে। আইনের আওতায় অথোরিটি গঠন করে আগামী অর্থবছর থেকেই এ পেনশন ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। তবে সরকারি চাকরিজীবী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা আপাতত সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার বাইরে থাকবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া স্বচ্ছল নাগরিকদের জন্য সরকারের কোষাগার থেকে কন্ট্রিবিউশন থাকবে না। শুধু প্রান্তিক নাগরিকদের জন্য সরকারের কন্ট্রিবিউশন থাকবে। তবে এই তহবিলে জমা হওয়া অর্থ ট্রেজারি বিল, বন্ডে বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারের লাভজনক অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগ করা হবে। এতে ১০% হারে পেনশন তহবিলে সুদ পরিশোধ করবে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা বিষয়ে একটি কৌশলপত্র উপস্থাপন করেছেন অর্থবিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার। তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার আলোকে প্রণীত কৌশলপত্রটির উপর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য জরুরিভিত্তিতে একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে অর্থবিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।