চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে আগুনে দগ্ধ অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে। আহত হয়েছে অনেকে। সীতাকুণ্ডের এ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ রোগীদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের সেবা চলছে। এর মাঝেই নানা সেবার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শুধু ঢাকাতেই নয়, যেদিন আগুনের সূত্রপাত-সে দিন থেকে নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি ও মানবিকতার প্রমাণ দিয়েছে সংগঠনটি।

জানা যায়, চট্টগ্রামের দুর্ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা,মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়,মেডিকেল ছাত্রলীগকে ওখানে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। তারা সেখানে রক্তদানসহ নানা সেবা দিয়েছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের গুরুতর আহতদের যখন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। তখন এখানে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা হেল্পডেস্ক চালু করা হয়। আর এ ডেস্কের মাধ্যমে রোগীদের জন্য রক্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ছাত্রলীগের প্রায় ৪৫০ জন রক্তদাতা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে রক্তদানের জন্য। এছাড়া প্রায় ৬ শতাধিক নেতাকর্মীর তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে প্রয়োজনে তারাও রক্ত দিতে পারে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভার্চুয়াল ব্লাড ব্যাংক এতে কাজ করছেন।

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে রোগীর সাথে আগত আত্মীয়- স্বজনদের গোসল ও থাকার ব্যবস্থা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল এবং শহীদুল্লাহ্ হলে। এছাড়া শুকনো খাবারের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন, ওরস্যালাইন, মাস্ক,গ্লাভস, জরুরী ঔষধ প্রদানসহ আরও নানা সেবা প্রদান করা হয়।

ছাত্রলীগের এসব সেবার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন সংগঠনটির সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক শেখ স্বাধীন মো. শাহেদ। জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যেকোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থাকে। এবারও চট্টগ্রামের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা দায়বদ্ধতা থেকে এসব সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আর এটা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যতদিন রোগীদের সাহায্য -সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, ততদিন আমাদের এই সেবা চলমান থাকবে।

তিনি আরো বলেন,এবি পজিটিভ এবং ও পজিটিভ রক্তের চাহিদা বেশি ছিল।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানোর পর থেকে আমরা আমাদের নিজস্ব ডোনার দিয়ে আজ পর্যন্ত রক্তের ব্যবস্থা করে যাচ্ছি।

এদিকে ছাত্রলীগের এসব সেবা ইতোমধ্যে কুড়িয়েছে প্রশংসাও। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক তার ফেসবুকে লিখেন, সব স্বেচ্ছায় রক্তদান। ছাত্রলীগ আর বাঁধন। জয় হোক মানবতার। সূত্র; বিবার্তা