স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা শহীদ রাউফুন বসুনিয়ার ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আজ রবিবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল সংলগ্ন শহীদ রাউফুন বসুনিয়া তোরণে ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ সময় বসুনিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শহীদ রাউফুন বসুনিয়ার অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে চিরকাল। গণতন্ত্রের দাবিতে স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে নেতৃত্বদানকারী রাউফুন বসুনিয়া স্বৈরাচার এরশাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।’

সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘শিক্ষা ও গণতন্ত্রের দাবিতে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদ রাউফুন বসুনিয়ার অমর স্মৃতিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারের গুলিতে নিহত শহীদ রাউফুন বসুনিয়ার আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করে এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত করে।’

প্রসঙ্গত, আশির দশকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রাউফুন বসুনিয়া। ১৯৮৫ সালের এই দিনে রাত ১১টার দিকে স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে নেতৃত্বদানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুলের সামনে তৎকালীন স্বৈরাচার এরশাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।

বসুনিয়া কুড়িগ্রাম জেলার সন্তান। জেলার রাজারহাট উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর পাঙ্গারাণী লক্ষ্মীপ্রিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন কারমাইকেল কলেজ থেকে। তারপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। মৃত্যুর সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন তিনি।