করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন দিয়েছে সরকার। করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় ছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দরিদ্র কৃষক মো.জয়নাল মিয়া। দেশের চরম এই দুঃসময়ে ৫০ শতক জমির ধান কেটে  কৃষকের চিন্তা মুক্তকরে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো.জয়নাল মিয়া  ৫০ শতক জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধানের আবাদ করেন।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে আচমকা গরম বাতাসে উপজেলার অসংখ্য কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে যায়। বাদ যায়নি কৃষক জয়নাল মিয়ার বোরো ধানও। এত কষ্টের ফসল খানিকটা নষ্ট হওয়ায় হারিয়ে যায় তার মুখের হাসি।

এমন চরম দুঃসময়ে কোভিড-১৯ এর প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় করোনা প্রতিরোধে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেন সরকার। ইতোমধ্যে ক্ষেতের ধানও পেকে যায় জয়নাল মিয়ার। কিন্তু লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকট ও এলাকার শ্রমিকদের মজুরি বেশি হওয়ায় ধান কাটাতে পারছিলেন না দরিদ্র কৃষক জয়নাল মিয়া।

কৃষকের এমন সমস্যার কথা জানতে পেরে উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী মাহমুদ হাসান সুমন ও রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি টিম সেখানে যান।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) তাদের নেতৃত্বে উপজেলা পর্যায়ের ১০ জন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এ ধান কাটায় অংশ নেন।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পাকা ধান কেটে দেওয়ায় আবেগাপ্লুত কৃষক জয়নাল মিয়া জানান, ‘লকডাউনে শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান কাটতে পারছিলাম না। এছাড়া আমি গরীব মানুষ, এলাকার শ্রমিকদের মজুরিও খুব বেশি। ক্ষেতের ধান পাকার পরও তা কাটতে না পারায় কিছুটা ক্ষতির শঙ্কায় ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমার এমন অসহায়ত্বের কথা শুনে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই ৫০ শতক ক্ষেতের ধান কেটে দেন। ছাত্রলীগের সাহায্যের কথা আমি কোনদিনও ভুলব না।’

উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মী মাহমুদ হাসান সুমন বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। দেশের এমন চরম দুঃসময়ে, শ্রমিক সংকট মূহুর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আহবানে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় আমরা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে অসহায় কৃষকের জমির ধান কেটে দিয়েছি। আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’