* শিক্ষা * শান্তি * প্রগতি

* জয় বাংলা * জয় বঙ্গবন্ধু

আমি খুব আনন্দিত তোমাদের কাজে, তোমাদের ধন্যবাদ ; ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা

আমি খুব আনন্দিত তোমাদের কাজে, তোমাদের ধন্যবাদ ; ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা

করোনাভাইরাস ও বন্যাসহ পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাঁড়ানোর কর্মকান্ডের জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রশংসা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি খুব আনন্দিত। তোমাদেরকে ধন্যবাদ জানাই-আমি বলার সাথে সাথে তোমরা মাঠে নেমে গেছো এবং কাজ করেছো। তোমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছো আগামী প্রজন্মের জন্য।

রবিবার বিকেলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অবিভাবক শেখ হাসিনা বলেন, আমি অনেক কথা বললাম; আমি শুধু এইটুকু বলবো, জাতির পিতা শুধু দিয়েই গেছেন কিছু নিয়ে যাননি। কারণ তাকে হতার পর যারা ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণ করেছে কাউকে কিন্তু কোন কাফন-দাফন দেয়া হয়নি জানাজাও দেয়া হয়নি।

যেহেতু আমার বাবার লাশটা টুঙ্গিপাড়া গিয়েছিল। সেখানে মাওলানা সাহেব এবং যারা আশপাশে এসেছিলেন; অল্প চার পাঁচ জন ছিল। তারা একটু জোর করেছিল বলে তাকে একটু গোসলের সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু দাফনের কাপড় সেটা কেনার মত সেখানে দোকানও ছিল না, খোলাও ছিল না।কারফিউ দেয়া হয়েছিল।

বাংলার গরীব মা; তাদেরকে যে রেডক্রিসেন্টের মাধ্যমে রিলিফ দিতেন,,,, সেই রেডক্রস হসপিতাল; আমার দাদীর নামে একটা হসপিতাল করা হয়েছিল সেখানে বেশ কিছু এই কাপড় রাখা ছিল। সেখান থেকে কয়েকটা কাপড় নিয়ে এসে সেই রিলিফের কাপড়, শাড়ির পাড় ছিঁড়ে; সেই কাপড় দিয়েই আমার বাবাকে দাফন দেয়া হয়েছিল।

অর্থ্যাৎ তিনি তার ওই গরীব মা গ্রামের মানুষ দরিদ্র্য মানুষ; তাদের যেটুকু দিতে পারতেন, সেই কাপড় জড়িয়েই কিন্তু তিনি চলে গেছেন। বাংলার মানুষের কাছ থেকে কিছু নিয়ে যাননি, দিয়েই গেছেন। শেষ পর্যন্ত রক্তটাও দিয়ে গেছেন।

‘‘আমি এইটুকু’ই বলবো, কোন আত্মত্যাগ বৃথা যায় না। তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, এদেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করবে, ওইটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা যেন গড়তে পারি।

‘ছাত্রলীগের আজকের দিনে যারা নেতৃত্ব এবং আগামী দিনেও যারা নেতৃত্বে আসবে, তাদেরকে এইটুকুই বলবো—- দেশপ্রেমে উদ্বুর্ধ্ব হয়ে জাতির পিতার আদর্শ বুকে নিয়ে ছাত্রলীগের মূলমন্ত্র ধারণ করে তোমরা এগিয়ে যাবে সেটাই আমি চাই। ত্যাগের মধ্য দিয়েই শান্তি, ভোগের মধ্যে না। একথাটা সবসময় মনে রাখবে এবং জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে যদি চলো, দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারবে, দেশের ভবিষ্যৎটা যেভাবে আমরা তোমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য এই দেশকে গড়ে দিয়ে যেতে চাচ্ছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে তোমাদের নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে শিক্ষা স্বাস্থ্য, সব দিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। ঠিক সেইভাবে দেশটা যেন এগিয়ে যায়, সেটাই তোমাদের কাছ থেকে আমরা আশা করছি।তোমরা সেই ভাবেই করবে।

সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আমার ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানাই। আমি যখন বলেছি, কোভিডের জন্য মানুষ নিজের আত্মীয় স্বজন তার আপনজনের লাশ ফেলে চলে যায়, কাফন-দাফনের ব্যবস্থা হয় না। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেখানে ছুটে গেছে। নিজের জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে এই মৃতদের; তাদের দাফন-কাফন, সৎকারের ব্যবস্থা করেছে।সেজন্য আমি ছাত্রলীগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এছাড়া লকডাউনের সময় কৃষকদের ধান কাটায় এগিয়ে আসার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,‘কোন অহমিকা তো কাজ করেনি। সবাই তো কৃষকের কাছে ছুটে গেছে। ছুটে যেয়ে তোমরা সেই কৃষকের পাশে দাড়িয়েছে এবং ধান কেটে তাদের ঘরে তুলে দিয়েছ। তাদের পাশে থেকেছো। এটাই বলে দেশসেবা। এই যে তোমরা সবকিছু ভুলে গিয়ে চলে গেলা, কৃষকের পাশে দাঁড়ালা। তোমাদের সাথে সাথে পরবর্তীতে আমাদের যুবলীগ গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ গেছে আর আওয়ামী লীগ তো গেছেই।”

এছাড়া বন্যার সময় রিলিফের জন্য প্রত্যেকে যার যার সাধ্যমতো সহায়তা পৌঁছে দিয়েছো। করোনার কারণে যারা এবেবারে দরিদ্র যারা হাত পাততে পারে, তারা এক রকম! কিন্তু যারা হাত পাততে পারে না, চাইতে পারে না। তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া, পণ্য পৌঁছে দেয়া, সেটাও আমাদের ছাত্রলীগ তোমরা ভালভাবে করেছো? সেজন্য সত্যি আমি খুব আনন্দিত। তোমাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এই যে আমি বলার সাথে সাথে তোমরা মাঠে নেমে গেছো এবং কাজ করেছো, সারাদেশের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা করেছে।

‘‘এটা আমি বলবো, তোমরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছো আগামী প্রজন্মের জন্য। যে কোন কাজেই অবহেলার না, নিজের কাজ নিজে করতে হয়, যা খেয়ে আমাদের জীবন বাঁচে, ক্ষুন্নিবৃত্তি হয়। সেটার জন্য আমরা নিজেরা কাজ করবো, এতে লজ্জার কি আছে? কখনো কোন কাজ অবহেলার না। কিন্তু তোমরা সেটা করতে পেরেছো।

‘‘এই যে একটা ভয়ভীতি কাজ করেনি। অহমিকা কাজ করেছি সেগুলি জয় করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এটাই তো সবথেকে বড় কথা, সেটা তোমরা করতে সক্ষম হয়েছো।”

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ ব্যাপকভাবে রোপণ করে যাচ্ছে এবং এটা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সবসময় পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ছাত্রলীগকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রলীগের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, লেখাপড়া শিখতে হবে। হ্যাঁ, এখন যেহেতু ক্লাশ বন্ধ। আমরা টেলিভিশনের মাধ্যমে কিছু ক্লাশ নিচ্ছি। এখন সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে। এখন সংসদ যেহেতু বেশি চলে না। কিন্তু পড়াশোনাটা তারপরও চালিয়ে যেতে হবে। পড়াশোনার অভ্যাসটা যেন নষ্ট না হয়। একটু অবস্থা ভাল হলে হয়ত আমরা স্কুল কলেজ খুলে দিতে পারব। কিন্তু এই মুহুর্তে আমি মনে করি, প্রত্যেকের জীবন বাঁচানোটা হচেছ সবার আগে দায়িত্ব।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিশষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টচার্য়। সভার শুরুতে জাতির সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া ছাত্রলীগের প্রকাশনা মাতৃভূমির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, এটা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি বলেই তো আজকে ভিডিও কনফারেন্সিংর মাধ্যমে কথা বলতে পারছি। এটা যদি না হতো তাহলে সবকিছু স্থবির হয়ে থাকতে হতো।

 

সংগঠনের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আমার ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানাই। আমি যখন বলেছি, কোভিডের জন্য মানুষ নিজের আত্মীয় স্বজন তার আপনজনের লাশ ফেলে চলে যায়, কাফন-দাফনের ব্যবস্থা হয় না। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেখানে ছুটে গেছে। নিজের জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে এই মৃতদের; তাদের দাফন-কাফন, সৎকারের ব্যবস্থা করেছে।সেজন্য আমি ছাত্রলীগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এছাড়া লকডাউনের সময় কৃষকদের ধান কাটায় এগিয়ে আসার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভ’মিকার কথা তুলে ধরেও প্রশংসা করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন,‘কোন অহমিকা তো কাজ করেনি। সবাই তো কৃষকের কাছে ছুটে গেছে। ছুটে যেয়ে তোমরা সেই কৃষকের পাশে দাড়িয়েছে এবং ধান কেটে তাদের ঘরে তুলে দিয়েছ। তাদের পাশে থেকেছো। এটাই বলে দেশসেবা। এই যে তোমরা সবকিছু ভুলে গিয়ে চলে গেলা, কৃষকের পাশে দাঁড়ালা। তোমাদের সাথে সাথে পরবর্তীতে আমাদের যুবলীগ গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ গেছে আর আওয়ামী লীগ তো গেছেই।”

এছাড়া বন্যার সময় রিলিফের জন্য প্রত্যেকে যার যার সাধ্যমতো সহায়তা পৌঁছে দিয়েছো। করোনার কারণে যারা এবেবারে দরিদ্র যারা হাত পাততে পারে, তারা এক রকম! কিন্তু যারা হাত পাততে পারে না, চাইতে পারে না। তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া, পণ্য পৌঁছে দেয়া, সেটাও আমাদের ছাত্রলীগ তোমরা ভালভাবে করেছো? সেজন্য সত্যি আমি খুব আনন্দিত। তোমাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এই যে আমি বলার সাথে সাথে তোমরা মাঠে নেমে গেছো এবং কাজ করেছো, সারাদেশের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা করেছে।

‘‘এটা আমি বলবো, তোমরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছো আগামী প্রজন্মের জন্য। যে কোন কাজেই অবহেলার না, নিজের কাজ নিজে করতে হয়, যা খেয়ে আমাদের জীবন বাঁচে, ক্ষুন্নিবৃত্তি হয়। সেটার জন্য আমরা নিজেরা কাজ করবো, এতে লজ্জার কি আছে? কখনো কোন কাজ অবহেলার না। কিন্তু তোমরা সেটা করতে পেরেছো।

‘‘এই যে একটা ভয়ভীতি কাজ করেনি। অহমিকা কাজ করেছি সেগুলি জয় করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এটাই তো সবথেকে বড় কথা, সেটা তোমরা করতে সক্ষম হয়েছো।”

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ ব্যাপকভাবে রোপণ করে যাচ্ছে এবং এটা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সবসময় পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ছাত্রলীগকে কাজ করে যেতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।